হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ফ্রন্টলাইন করোনাযোদ্ধা তরুন চিকিৎসক মো. ফোরকান উদ্দিন সিকদার। ১৭ দিন পর অবশেষে করোনামুক্ত হয়ে চিকিৎসা সেবায় ফিরলেন তিনি। গত কয়েক মাস ধরে তিনি হাসপাতালে করোনা রোগীদের ফলোআপ করা, ফ্লু কর্ণারে রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ন দায়িত্ব পালন করেছেন ।

কিন্ত পরিবারের অন্য কাউকে সংক্রমিত হতে দেননি। গত দুই মাস ধরে একটি কক্ষে তিনি নিজেকে আলাদা করে নিয়েছেন। প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে ঘরে আসার পর একটি কক্ষে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখেন। খাবারও খেয়েছেন আলাদা। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও মুঠোফোনে করোনা রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সৈয়দবাড়ি এলাকায় তাঁর বাড়ি। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা। এছাড়া তিনি করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসনের দায়িত্বও পালন করছেন ।

জানতে চাইলে চিকিৎসক মো. ফোরকান উদ্দিন সিকদার বলেন, ৮ জুলাই করোনা পরীক্ষায় তাঁর প্রতিবেদন পজিটিভ আসে। এর এক সপ্তাহ আগে থেকে মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি বলেন, আক্রান্তের পর বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। ওষুধ খেয়েছি। বাড়িতে বসে যতটুকু সম্ভব দায়িত্ব পালন করেছি। হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের কারনে করোনা সংক্রমিত হয়ে পরিবারের মাঝে ছড়াতে পারেন সেই সন্দেহে তিনি দুই মাস আগে থেকে একটি কক্ষে আলাদা থেকেছেন। করোনা আক্রান্তের পরও তিনি রোগীদের ফোনে চিকিৎসা দিয়েছেন। ২১ জুলাই নমুনা পরীক্ষায় তাঁর নেগেটিভ আসে। ২৫ জুলাই থেকে হাসপাতালে গিয়ে পুরোদমে রোগী দেখছেন। করোনা রোগীদের ফলোআপ করছেন। মনোবল শক্ত রাখলে করোনামুক্ত হওয়া অসম্ভব কিছুনা বললেন এই চিকিৎসক। জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেহানুল ইসলাম বলেন, ” চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীদের চিকিৎসা দেয়া তাঁদের দায়িত্ব। চিকিৎসকরা আক্রান্ত হলেও দায়িত্ব পালন থেকে পিছপা হবেন না। করোনাযুদ্ধে সব সময় সম্মুখে থাকবেন তাঁরা।

উল্লেখ্য ফোরকান উদ্দিন সিকদার ৩৯ তম বিসিএসে এসিস্ট্যান্ট সার্জন পদে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এরপর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নিজ এলাকা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তিনি। এর আগে তিনি বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বরিশাল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন এবং চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ফোরকান উদ্দিন সিকদারের সহধর্মীনিও একজন চিকিৎসক। বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি কর্মরত রয়েছেন।








