এএসপির নিখুঁত পরিকল্পনায় মামলা দায়েরের ৬ ঘণ্টা না পেরোতেই পুলিশের জালে ধর্ষক

মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বড় বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে কিশোরী ছোটবোনকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন গাবতল নিবাসী আব্দুশ শুক্কুর ওরফে লেবার শুক্কুরের পুত্র সাজ্জাদ (২২) দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসী দম্পতির কন্যা এক তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। তরুণীর বাবা-মা দুজনেই বিদেশে থাকার সুযোগে  তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার কিশোরী ছোটবোন (১৫)এর দিকেও হাত বাড়ান তিনি। নানাভাবে যৌন আহ্বান করার পরও সাড়ালাভে ব্যর্থ হয়ে প্রতিশোধস্বরূপ তিনি ওই কিশোরীকে  ধর্ষণের সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশ সূত্র জানায়।

পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক গত ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যায়  ধর্ষিতা কিশোরীকে ফোন করে ডেকে নেন সাজ্জাদ। তারপর সহযোগী আসামি রিপন (১৯) এর সহায়তায় মুখ চেপে ধরে তাকে অপেক্ষমাণ সিএনজি অটোরিকশায় উঠিয়ে রাঙ্গামাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে মর্মে হুমকি প্রদানপূর্বক সেখানে তাকে  রাতভর ধর্ষণ করেন সাজ্জাদ। পরদিন ধর্ষিতা কিশোরী সুযোগ বুঝে তার মামাকে ফোন করে নিজ অবস্থান জানান। সেই অনুযায়ী ধর্ষিতার মামা এবং অন্যরা ঘটনাস্থলে হাজির হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে কৌশলে সেখান থেকে সটকে পড়েন সাজ্জাদ ও রিপন।

পরবর্তীতে ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে ধর্ষিতার নানী বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় সাজ্জাদ ও রিপনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ৫ ঘন্টার মাথায় চট্টগ্রাম জেলা,পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম’র প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় উপজেলার হালিমপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামি সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে ওসি সাইফুল ইসলাম ও এসআই রবিউলসহ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. হেলালুদ্দিনের আদালতে হাজির করা হলে সেখানে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে নেন সাজ্জাদ।

এ প্রসঙ্গে অভিযানের পরিকল্পনাকারী সার্কেল এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথেসাথে সেটা মামলা হিসেবে রেকর্ড করার পাশাপাশি আমরা আসামি গ্রেপ্তারে তৎপর হই। সেই অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশে পালিয়ে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে প্রধান আসামি সাজ্জাদকে আমরা গ্রেফতার করি। ইতোপূর্বেও যখনই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পালিয়ে যাওয়ার আগেই আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি।

ধর্ষককে গ্রেফতারে পুলিশের এই তাৎক্ষনিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

রাঙ্গুনিয়া মডার্ন ব্লাড ডোনেশন ক্লাবের উপদেষ্টা মণ্ডলীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।

রাঙ্গুনিয়া মডার্ন ব্লাড ডোনেশন ক্লাবের সাথে সংগঠনের নতুন গঠিত উপদেষ্টা মণ্ডলীরদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকাল ৩টায় রাঙ্গুনিয়া ইছামতি কমিউনিটি সেন্টারে ক্লাবের সভাপতি এম.আর. মামুনুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা মণ্ডলীদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য কামরুল ইসলাম চৌধুরী, একোরা বায়োটেকনোলজি লিমিটেড এর এডমিন ডা.মোহাম্মদ সেলিম, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি আকাশ আহমেদ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট রেহেলা আক্তার, রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইফতেকার হোসেন,মোহাম্মদ ওবাইদুর রহমান, মোঃআবু সায়েম, ডেন্টিস্ট শহিদুল ইসলাম হেলাল, সাংবাদিক জগলুল হুদা, মোঃ ওসমান গণি, নেজাম উদ্দিন, জাকিরুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদ, নজরুল ইসলাম,  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন  ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল মোস্তফা প্রমুখ।

রাঙ্গুনিয়ায় একযোগে শরণাংকর থের’র শাস্তির ও গ্রেফতারে দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

রাঙ্গুনিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মের বিতর্কিত শরণাংকর নামে এক ভিক্ষুকে গ্রেপ্তার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজ পর পর রাঙ্গুনিয়া জুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে এই ভিক্ষুর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ, প্রতিবাদ করেছে সম্মিলিত মুসলিম সমাজ।

এই বৌদ্ধ ভিক্ষু ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর কটুক্তি সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক ও দেশ বিরোধী নানা বিবৃতি জের ধরে সম্মিলিত মুসল্লী সমাজের এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। উপস্থিত মুসল্লীরা মানববন্ধন মাধ্যমে সরকারে কাছে দাবি রাখেন যে বৌদ্ধ ভিক্ষু আমাদের নবী রাসুল ও দেশ বিরোধী ও উস্কানিমূলক কথা বলেছে তার জন্য তার বিচার ও শাস্তির দাবি করেন।

এদিকে রাঙ্গুনিয়ার রোয়াজারহাট বাজার , মরিয়ম নগর, গোচরা চৌমুহনী বাজার, শান্তিরহাট বাজার, ইছাখালী বাজার, চন্দ্রঘোনা বাজার, গোডাউন বাজার, আরো অনেক জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ বাজারে কাপ্তাই সড়কের পাশে এক সাথে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য যে—রাঙ্গুনিয়া পদুয়া ইউনিয়ন সহ রাঙ্গুনিয়া জুড়ে এই বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাংকর থেরকে ঘিরে গত কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সমাবেশ সহ নানা কমসূচী অব্যাহত রয়েছে।
রাঙ্গুনিয়ার সর্বস্তরের মানুষের একটাই দাবি তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা ও এবং রাঙ্গুনিয়ায় তার প্রবেশ ঠেকাতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া সুন্নী আলেম সমাজ, মুসলিম ঐক্য সমাজ, মুসলিম উম্মাহ ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কাফন মিছিল, মোটরসাইকেল শোডাউনসহ বিভিন্ন আন্দোলন রাঙ্গুনিয়া জুড়ে অব্যাহত আছে।

জাহেদ হাছান তালুকদার ————

উত্তর রাঙ্গুনিয়া ছাত্রসেনার খালেক সভাপতি জয়নাল সাধারণ সম্পাদক

মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।

উত্তর রাঙ্গুনিয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার প্রতিনিধি সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল খালেক’কে সভাপতি ও জয়নাল আবেদীন’কে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১জন বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।

(১অক্টোবর)বৃহস্পতিবার উত্তর রাঙ্গুনিয়া মোগলের হাট মির্জা হোসাইন তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া  সুন্নিয়া মাদ্রাসার হলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা উত্তর ছাত্রসেনার প্রতিনিধি সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে অনুষ্ঠানের কাউন্সিল চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রসেনার সহ-সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-নোমান অতিথিবৃন্দের উপস্থিতিতে এই কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং এই কমিটি আগামী ২০২০-২১ সেশনের দায়িত্ব পালন করবে।

নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন নারীরা

মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।

বর্তমান সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মূল্যবোধের অভাবেই সিলেটে এম সি কলেজের মতো বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারীরা যার জন্য  নিরাপদ নয় এদেশের নারী সমাজ, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয়ে এসব ঘটনা ঘটে চলছে
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সহ-সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম মুনীরি প্রধান অতিথি বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

(১ অক্টোবর)বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় উত্তর রাঙ্গুনিয়া মোগলের হাট মির্জা হোসাইন তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা হলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা উত্তর ছাত্রসেনা’র প্রতিনিধি সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশন সংগঠনের সভাপতি এম এ কাদের জাহেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আজিজুল হক আলকাদেরী, প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ইসলামী ছাত্রসেনার সভাপতি
ছাত্রনেতা মুফিজুর রহমান, কাউন্সিল ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ইসলামী ছাত্রসেনার সহ-সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-নোমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা আলী শাহ নেছারী, ইউছুপ মাতব্বর, যুবনেতা এইচ এম শহিদুল্লাহ, করিম উদ্দিন হাসান, ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ইদ্রিস,মাওলানা রমজান আলী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম,এইচ এম তারেক, আশেকে মোস্তফা,আবু তাহের, আহমহ নূর-সহ অনেকে।
পরে মাওলানা আব্দুল খালেক’কে সভাপতি জয়নাল আবেদীনকে সাধারণ সম্পাদক ও রশিদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩১জন বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের এনসাইক্লোপিডিয়া : ইমাম আলা হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি

মুহাম্মদ  আবদুল্লাহ  আল মাসুম 

বিশ্ব নন্দিত  গবেষক ও দার্শনিক আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) সমসাময়িক  বিজ্ঞ শিক্ষকগণ কিংবা আপন প্রকৃতিগত প্রতিভার মাধ্যমে প্রায় ৫৫ টি বিষয়ের বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন- যার একটি তালিকা তৈরী করে তিনি নিজেই ১৩২৪ হিজরীতে মক্কা শরীফের মুফতী আল্লামা খলিল মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহির নিকট পেশ করেছিলেন এবং এগুলোর এযাযত নামাও লাভ করেছিলেন। তাঁর এই জ্ঞানগর্ভ চিন্তাধারা ও ক্ষুরধার লিখনি দেখে আধুনিক দার্শনিকরা তাঁকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ‘‘এনসাইক্লোপিডিয়া’’ তথা বিশ্বকোষ বলে অভিহিত করেছেন। কেননা, তাঁর কলমের এমন শান ছিল যে, তিনি কম বেশি পঞ্চাশটি বিষয়ের উপর অসংখ্য  কিতাব রচনা করেছেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন প্রস্রবণ জারী করেছেন যার থেকে আজও বিশ্ববাসী তৃপ্তির সাথে উপকার গ্রহণ করছে। পক্ষ-বিপক্ষের সকলেই একবাক্যে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে যে, হুযূর ইমাম  আহমদ রেযা খাঁন রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ কলম সম্রাট। যে বিষয়ের উপর তিনি কলম ধরেছেন দ্বিতীয় কারোও কলম ধরার সাহস হয়নি। তিনি তাঁর সুচিন্তিত মতামত, জ্ঞানগর্ভ চিন্তাধারা ও ক্ষুরধার লিখনির মাধ্যমে ভারত উপমহাদেশে ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের অঙ্গনে এক নব জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। যার জীবন্ত প্রমাণ বহন করছে তাঁর রচিত সহস্রাধিক গ্রন্থ-পুস্তক। তিনি শুধুমাত্র গবেষণা, ফতোয়া ও পুস্তকাদি রচনায় আত্মনিয়োগ করেননি; বরং সমকালীন বিশ্বের ঘটনা প্রবাহ ও চলমান রাজনৈতিক, সমাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন।
উপমহাদেশে যখন ইংরেজ শাসকদের লেজুড়বৃত্তি করে কিছু লিখক নিজেদের লেখায় মুসলমানদের হৃদয় থেকে নবীর ভালোবাসা, সাহাবাদের মহত্ত¡, আহলে বায়ত তথা নবী পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, ও বুজুর্গ আওলিয়ায়ে কেরামগণের অবদানের স্মৃতি গুলো নিভিয়ে দিয়ে তাদের ভ্রান্ত মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা করছিল তখনই ইমাম আলা হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি কলম ধরলেন পবিত্র  কুরআনুল করিমের সঠিক তরজুমা (অনুবাদ) কর্মে। ১৩৩০ হিজরিতে শুরু করে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে মুসলিম মিল্লাতকে উপহার দিলেন কুরআনে কারীমের অসাধারণ অনুবাদ গ্রন্থ “তরজুমায়ে কানযুল ঈমান”। তিনি শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অনুরাগ দেখিয়ে অতুলনীয় ভাষা শৈলী ও ছন্দের যাদু প্রদর্শন করে নাত-কাব্য রচনা করে সাহিত্য জগতেও অবদান রেখেছেন । তিনি উর্দু, আরবী এবং ফারসি প্রভৃতি ভাষায় হামদ-নাত শরীফ লিখেন। তিনি এই নাতের দেওয়ানাতে আরবী অলংকার শাস্ত্রের ফাসাহাত ও বালাগাতের সমাহার করেছেন। তার প্রতিটি নাত-কাব্যে প্রকাশ পেয়েছে নবী প্রেমের অসাধারণ প্রকাশভঙ্গী। এই কাব্যগ্রন্থের নাম “হাদায়েকে বখশীশ”।
তাঁর রচনাবলীর মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞ গবেষক ও সুধী মহলে সাড়া জাগানো অনন্য হলো- ‘‘ আল আতায়া আন নবভীয়্যাহ ফিল ফতওয়া আর রজভীয়্যাহ ’’ সংক্ষেপে যাকে ফতওয়ায়ে রেজভীয়্যাহ বলা হয়। লক্ষাধিক বিষয়ের সমাধানে বিশাল সম্ভার মুসলিম জাতিকে উপহার দিয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ খন্ডে এটি প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষত উর্দু ভাষায় প্রায় ২২০০০ পৃষ্ঠা সম্বলিত, ছয় হাজার আটশত সাত চল্লিশটি প্রশ্নোত্তর এবং ২০৬ টি পুস্তিকা সম্বলিত। এই গ্রন্থটি ফিকহ শাস্ত্রে শুধুমাত্র হানাফি মাযহাবের মহান কীর্তিই নয়, বরং ইলমে ফিকহের ইতিহাসেও এক অনবদ্য কর্ম। বিশ্ব বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. আল্লামা ইকবাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি  ফিক্হ শাস্ত্রে ইমাম আহমদ রেজা খান রহমাতুল্লাহি আলাইহির সুক্ষ গবেষণা ও গভীর দৃষ্টিপাতের স্বীকৃতি দিয়ে বলেন- ‘‘ভারত বর্ষে হযরত আহমদ রেজার মত সুস্থ স্বভাব ও মেধাসম্পন্ন ফকীহ আর জন্ম হয়নি। এটি ( ফতওয়ায়ে রেজভীয়্যাহ) তার মেধা, তীক্ষ্ম বুদ্ধি, উন্নত স্বভাব, অনুধাবন ক্ষমতা ও দ্বীনি জ্ঞানের গভীরতার জ্বলন্ত সাক্ষী।  তাই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে আমেরিকার জ্যোতিষীর বিশ্বব্যাপি আতংক ছড়ানো সেই ‘কিয়ামতের পূর্বাভাস’ এর যৌক্তিক খন্ডন ও বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল প্রমাণিত করা। তিনি আইনস্টাইন এবং নিউটনের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে ৩টি বিজ্ঞান বিষয়ক বই যথা-১.আল কালিমাতুল মূলহামাতু ফীল হিকমাতিল মুহকামা লি ওয়ায়ে ফালসাফাতিল মুশামমাহ (১৯১৯ খ্রিঃ) ২. ফাওযে মুবীন দর রদ্দে হরকতে যমীন(১৯১৯ খ্রিঃ) ৩. নযুলে আয়াতে কুরআন বে সাকুনে যমীন ওয়া আসমান (১৯১৯ খ্রিঃ) রচনা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। কেননা, তিনি  উক্ত বই সমুহে নিউটন, আইনস্টাইন ও আলবার্ট এফ পোর্ট প্রমুখের প্রচারিত অভিমত খন্ডন করে কুরআনুল করিমের আয়াত দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, পৃথিবী স্থির, সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র পৃথিবীর চারিদিকে নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণে করছে। এ মতের স্বপক্ষে তিনি ১০৫টি প্রমাণ দাঁড় করেন- যার মধ্যে ১৫টি প্রমাণ পূর্বকার লেখকদের গ্রন্থ থেকে আর ৯০টি দলীল স্বয়ং তিনি নিজেই দাঁড় করেন। 
গণিত শাস্ত্রে তিনি অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। কথিত আছে যে, তিনি আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ডক্টর জিয়া উদ্দিনের (যিনি  গণিত শাস্ত্রে বিদেশী ডিগ্রি ও স্বর্ণ পদক লাভ করেছিলেন) একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন- অথচ এর সমাধানের জন্য তিনি জার্মান সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। গণিতশাস্ত্রে তাঁর পান্ডিত্যের কথা জানতে পেরে স্যার জিয়াউদ্দিন কোন । ঐ গাণিতিক সমস্যার সমাধানের জন্য আ’লা হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহির দরবারে গমন করেন। আ’লা হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি ভাইস চ্যান্সেলর সাহেবের প্রশ্নটা শুনা মাত্রই তার সন্তোষ জনক উত্তর দিয়ে দিলেন। তাঁর উত্তর শুনে স্যার ড. জিয়াউদ্দিন কিছুক্ষণ অবাক হয়ে রইলেন। তারপর তাঁকে বললেন: “হযরত! আমি এ প্রশ্নের সমাধানের জন্য জার্মান যেতে ইচ্ছা করেছিলাম, কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ম বিভাগের অধ্যাপক মাওলানা সৈয়্যদ সুলায়মান আশরাফ সাহেব আমাকে সমস্যাটার সমাধানের জন্য প্রথমে আপনার নিকট আসতে বলায় আমি এখানে আসলাম। আপনার উত্তর শুনে মনে হচ্ছে, আপনি সমস্যাটার সমাধান যেন বইতে নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছেন।”  তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ও ব্যক্তিত্বে তিনি এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, মুখে দাড়ি রেখে দিলেন এবং নামায রোযা নিয়মিত আদায় করার সৌভাগ্য অর্জন করলেন। (হায়াতে আ’লা হযরত, ১ম খন্ড, ২২৩, ২২৯ পৃষ্ঠা, মাকতাবাতুল মদীনা, বাবুল মদীনা, করাচী)
ইমাম আলা হযরত রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সময়ে সৃষ্ট বিভিন্ন ফিতনা-ফির্কা, মতবাদ ও বিভ্রান্তির যথাযথ জবাব প্রদানে সদা তৎপর ছিলেন। ১৯০১ সালে যখন মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮ ইং) নিজেকে নবী দাবী করলো, তখন তিনি তার এই ভ্রান্ত মতবাদ খন্ডনে স্বতন্ত্র পাঁচটি পুস্তক যথা-১.জাযাল্লাহু আদুওয়াহু বিআবায়ে খতমিন নবুয়ত ২.আস সূউ ওয়াল ইক্বাবু আলাল মাসীহিল কায্যাব ৩. ক্বহরুদ্দিয়ান আলা মুরতাদি বিকাদীয়ান ৪. আল মুবিনু খতমুন নবিয়্যিন ৫. আল জারাযুদ্দিয়ান আলাল মুরতাদিল কাদীয়ানী রচনা করেন ভন্ড নবীর মুখোশ বিশ্বের সামনে উন্মোচন করে দিয়েছেন।
অনুরুপভাবে শিয়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপ যখন আল্লাহ্ তায়ালা, তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম, পবিত্র ক্বোরআন ও সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমকে নিয়ে ঈমান বিধ্বংসী নানা মন্তব্য করতে লাগল তখন তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে আলা হযরত  রাহমাতুল্লাহি আলায়হি লিখলেন-১. আল আদিল্লাতুত্বাঈনা ফি আযানিল মুলাঈনা ২. মাত্বলাউল কামরাইন ফি আবানাতি সাবক্বাতিল ওমারাইন ৩. গায়াতুত তাহকীক ফি ইমামতি আলী ওয়াস সিদ্দিক ৪.রদ্দুর রাফেযী সহ প্রায় ২০টির অধিক কিতাব।
যখন তাসাউফের নামে কিছু সংখ্যক লোক শরিয়ত নির্দেশিত কর্মকন্ডকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে এবং দাবী করে নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত প্রভৃতি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ইসলামের মূল হল একমাত্র তরিকত। তাদের বিভ্রান্তির স্বরূপ উম্মোচন করে ইমাম আহমদ রেযা খান রহমাতুল্লাহি আলাইহি  লিখেন-১.কাশফু হাকায়িক ওয়া আসরারে দাকায়েক,  ২.আল ইয়াকূতাতুল ওয়াসেত্বাতু ফি কলবি আকদির রাবিত্বাহ, ৩.নুক্বাউস সালাকাহ ফি আহকামিল বাইআতি ওয়াল খিলাফাহ, ৪.মক্বালুল উরাফায়ি বিঈযাযি শরয়ীও ও ওলামায়ি নামক পুস্তকাদি। যা তাসাউফ’র প্রকৃত পরিচিতি তুলে ধরার পাশাপাশি তাসাউফের নামে ভন্ডামীর খোলস খুলে দেয়।
যখন খ্রিস্টান মিশনারী সংস্কৃতির নামে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা প্রচার করে মুসলিম যুব সমাজকে ঈমান ও পবিত্র আদর্শ থেকে বিচ্যুৎ করার অপচেষ্টা চালায় তখন তাদের মুখোশ উন্মোচন করে লিখলেন-“সাইফুল মুস্তফা আলা আদয়ানীল ইফতিরায়ি”। এভাবে তিনি তাঁর কলমের জিহাদ অব্যাহত রেখে সকল অপশক্তির বাতুলতার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ছেন। যে সমস্ত সংস্থা, সংগঠন ও ব্যক্তি  ইসলামী লেবাস পরিধান করে ইংরেজদের কৃপা ও অনুগ্রহ পাবার আশায় ইসলামকে বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত তাদের সেই ঘৃণ্য অপকর্মের স্বরূপ উম্মোচন করে দিয়ে তিনি বিশ্ব মুসলিম জাতিকে তাদের সম্পর্কে সতর্ক করে দিতে সদা সচেষ্ট ছিলেন। 
বর্তমান সংঘাতময় বিশ্বকে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদ ও নাস্তিক্যবাদী ও ইসলাম বিরোধী তৎপরতা থেকে রক্ষা করতে হলে আলা হযরতের কোরআন সুন্নাহর বিজ্ঞান ভিত্তিক দর্শন আলোকে জীবন পরিচালনা করতে হবে। অন্যতায় পশ্চিমা শক্তি মোনাফেক মুসলমানদের অর্থ দিয়ে ভাড়া করে প্রকৃত ইসলামের ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হবে।

লিখক: আরবী প্রভাষক, রাণীরহাট আল-আমিন হামেদিয়া ফাযিল মাদ্রাসা।
খতিব, রাজানগর রাণীরহাট ডিগ্রি কলেজ মসজিদ, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।

ফটিকছড়ি ও রাউজানে কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন কেন্দ্রীয় পরিষদের তত্বাবধানে ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

” অক্ষরে অমরতা ” শ্লোগানের পতাকাবাহী আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণমূলক সংগঠন ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ এর ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী কাঙালি ভোজ ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অদ্য ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ কাতার শাখার কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন এর সভাপতি মীর ইরফান সাঈদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ফটিকছড়ি পৌরসভার বাইতুশ শরফ মাদ্রাসা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
লেখক ও কবি প্রফেসর নজরুল ইসলাম হাবিবীর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দুই দুনিয়ার সংগঠন ‘সারাহ-হাবিব ট্রাস্ট লণ্ডন’-এর অঙ্গসংস্থা,আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণমূলক সংগঠন, ‘কলম সাহিত্য সংসদ লণ্ডন’কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমেই কোরআন তেলোয়াত ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান এবং কেক কাটা হয়।
দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতি মীর ইরফান সাঈদ সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, এই সংগঠন মানুষের জন্য, গরিবের জন্য, এতিমের জন্য কাজ করে। আজ ১০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।আপনারা সংগঠনের জন্য দোয়া করবেন।
যারা সংগঠনে লেখালেখি করে তাদের জন্য দোয়া করবেন। সংগঠনের সদস্যদের জন্য দোয়া করবেন। সংগঠনে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন তাদের জন্য দোয়া করবেন। যাতে সংগঠন ভালো কিছু করতে পারে।
আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমার পরিবারের মধ্যে অনেকে অসুস্থ আছেন তাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ শেফা দান করেন, হায়াত দেন।আমি যেন আরো আপনার জন্য, গরিব এতিমদের জন্য কাজ করতে পারি। এটি সেচ্চাসেবী মূলক সংগঠন,এই সংগঠন ফ্রি বই পুস্তক বিতরণ করে। মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণসহ নানা সাহিত্যিক ও সামাজিক উন্নয়ন করে আসছে।

পরে অর্ধশত এতিম দুস্থ কোরআনে হাফেজ ছেলেদের নিয়ে দুপুরবেলা ভোজন গ্রহন করেন ।কাঙালি ভোজের পর মৌওলানা খোরশেদ আলম মুনাজাত করে দেশ ও প্রবাসি সকলের জন্য দোয়া কামনা করে মোনাজাত শেষ করেন ।এতে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জামাল উদ্দিন সহ গোলাম মওলা চৌ, হাকিম শিকদার ,রাশেদুল হাছান রাজু,রাব্বি,শামসু, মৌলানা বেলাল প্রমুখ ।

রাউজানে কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডনের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রী মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ শুধু সাহিত্য চর্চা করে তা নয়,অত্র সংগঠন বহুমাত্রিক।এটি একটি নিরপেক্ষ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।আমরা সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি সমাজের সুখে-দুঃখেও অংশ গ্রহণ করি।যিঁনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তিঁনি ‘অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী’ একজন বহুদর্শী এবং আলোর দিশারি।

ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশ থেকে সরকারি ভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত “দুই দুনিয়ার সংগঠন” ‘সারাহ-হাবিব ট্রাস্ট লন্ডন’এর অঙ্গ সংস্থা,”অক্ষরে অমরতা” শ্লোগানের পতাকাবাহী আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণমূলক সংগঠন ‘কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন’ এর ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর-২০২০ সংযুক্ত আরব আমিরাত চ্যাপ্টারের কো-অর্ডিনেটর কবি-সাহিত্যিক জনাব মোফাচ্ছেল হক শাহেদ এর উদ্যোগে এবং তাঁর উপস্থিতিতে রাউজান উপজেলার ১৫নং নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের ০৪নং ওয়ার্ডের মাওলানা হুসেনুজ্জামান বাড়ি’র-‘জান্নাতুল মাওয়া জামে মসজিদ’ সংলগ্ন ফোরকানিয়া মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কায়দা-সিপারা,আমপারা,নামাজ শিক্ষার বই এবং কেক-জুস বিতরণের মধ্য দিয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এতে সমাজের আরও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী ও তাঁর পরিবার এবং বিশ্বব্যাপী অত্র সংগঠনের সকল সদস্য,লেখক,হিতাকাঙ্খী,শুভাকাঙ্খীদের মঙ্গল কামনায় দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন জান্নাতুল মাওয়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ সাফায়াত উল্লাহ্।

রাঙ্গুনিয়া শিলক ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।

রাঙ্গুনিয়া ৯নং শিলক ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন বর্তমান পরিষদের সভাপতি ডা.সমিরন দেবনাথের সভাপতিত্বে  ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রনব কুমার দে এর  সঞ্চালনায় (২৫সেপ্টেম্বর)শুক্রবার সকাল ১১টা শিলক গৌরাঙ্গ মন্দির ও সেবাশ্রমে অনুষ্ঠানে হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন শিলক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম তালুকদার, উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু বিভূতি ভূষণ সেন, প্রধান বক্তা ছিলেন মাস্টার নির্মল কান্তি দাশ, আলোকিত অতিথি ছিলেন অধ্যাপক অসীম কুমার শীল, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাবু শেখর বিশ্বাস,  মুক্তিযুদ্ধা ডা.অঞ্জন বিশ্বাস, লিটন কান্তি দে, মাহমুদুল হাছান বাদশা, মাস্টার অঞ্জন দাশ, মাস্টার রতন পাল, পুলিশ কর্মকর্তা লাভলু দাশ, প্যানেল চেয়ারম্যান কোব্বাত আলী, তপন অাচার্য্য, শান্ত দে, বিপ্লব দে, সাজু মিত্র প্রমুখ।

রাঙ্গুনিয়ায় আলাউদ্দিন জিহাদীর মুক্তি দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্ট,যুব সেনা, ছাত্রসেনা,সুন্নী জনতার যৌথ উদ্যোগে আলাউদ্দীন জিহাদীর মুক্তির দাবিতে বস্হপতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে মরিয়মনগর জিলানী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে কাপ্তাই সড়কের কলেজ গেইট, রাঙ্গুনিয়া থানা হয়ে রোয়াজারহাট এসে কাপ্তাই সড়কে অবস্থান করেন এবং সংক্ষিপ্ত ভাবে আলাউদ্দীন জিহাদীর মুক্তি দাবি জন্য সরকারে কাছে আবেদন ও বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন।

বিক্ষোভ মিছিলে আজিজুল হক আলকাদেরীর সভাপতিত্বে রাহাতীয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ ওবায়দুল মোস্তফা নঈমী স্বাগত বক্তব্যে বলেন সুন্নী জনতা কোন প্রকার হামলা,ভাঙচুর, আজ পয়র্ন্ত করে নাই,ইতিহাস সাক্ষী সুন্নী হুজুরের উপর কোন সুন্নী জনতা হামলা বা কোন ধরনের অপকর্মের অভিযোগ আজ পয়র্ন্ত আসেনি। তিনি আরো বলেন আমাদের একটাই দাবি আলাউদ্দিন জিহাদী হুজুরের মুক্তি চাই।

বিক্ষোভ মিছিলে করিম উদ্দীন হাছানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতি ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ইসলামী ফ্রন্টের উপদেষ্টা হাফেজ রুহুল আমিন আলকাদেরী বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন পীরজাদা মুহাম্মাদ গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ্, আবুল কারাম বয়ানী,আকতার হোসাইন,আব্দুর রহমান জামী,আলী শাহ্ নেছারী প্রমুখ।

এদিকে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করা জন্য রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন,পৌরসভা,দরবারের সাজ্জাদানশীন, ইসলামী ফ্রন্ট,যুব সেনা, ছাত্রসেনা,শত শত সুন্নি জনতা উপস্থিত মাধ্যমে জিহাদ হুজুরে মুক্তি দাবি করেন এবং বিক্ষোভ মিছিলের অংশগ্রহণ কারীরা কাপ্তাই সড়কের মাঝ খানে অবস্থান করায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি কোন প্রকার সমস্যা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ মিছিল শেষ হয়।বিক্ষোভ মিছিলে রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ সাথে ছিলেন যাতে কোন ধরনে কাপ্তাই সড়কের যানজট সমস্যা না হয়।

জাহেদ হাছান তালুকদার ———————-

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচন-বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন স্বজন কুমার

মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী স্বজন কুমার তালুকদার বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান পদে তিনি ছাড়া অন্য কেউ মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে মনোনয়ন দাখিলের শেষদিন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়নপত্র জমা দেন স্বজন কুমার তালুকদার। মনোনয়ন ফরম জমাদানকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান সিকদার, সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ও চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর, সদস্য ও শিলক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তালুকদার, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদার, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, প্রচার সম্পাদক এমরুল করিম রাশেদ, নারী ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আয়েশা আক্তার, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শামসুদ্দোহা সিকদার আরজুসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার শেষ দিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চেয়ারম্যান পদে শুধুমাত্র একজন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এছাড়া চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউপি(ইউনিয়ন পরিষদ) সদস্য পদে উপনির্বাচনে ৩ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে জয়নাব আকতার , নয়ন তালুকদার, বাচু আকতারও ঝিনু আকতার এই চার প্রার্থী ফরম জমা দেন। মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই ২৬ সেপ্টেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ৩ অক্টোবর এবং ২০ অক্টোবর ভোট গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অরুণ উদয় ত্রিপুরা বলেন, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের পর অফিসিয়ালভাবে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত বলা যাবে।
২৩ জুলাই রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর পদটি শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। খলিলুর রহমান চৌধুরী ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর পদটি শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। খলিলুর রহমান চৌধুরী ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

Design a site like this with WordPress.com
Get started